জুলাইয়ের হাজার পুলিশ হত্যার বিচার দাবি। উত্তাল ফেসবুক। থমথমে রাজপথ | আতঙ্ক জুলাই শিবিরে!
বিশেষ প্রতিবেদন | সংবাদ প্রতি প্রহর ডেস্ক
গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় সারা দেশে অসংখ্য পুলিশ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে হাজার হাজার পোস্ট করা হচ্ছে। খোদ পুলিশের উর্দ্ধত্তন কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে চাইছে বিচার। এর ফলে জুলাই পরিচালনা মহলে এক ধরনের অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা, ঢাকার যাত্রাবাড়ী এবং বাড্ডাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলার চিত্রগুলো বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হচ্ছে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ দাবি আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একজন স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই নৃসংশতা চালিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত যাচাইয়ে বর্তমানে ফেসবুকে এবং #JusticeForPolice #জুলাই_হত্যাকাণ্ডের_বিচার_চাই হ্যাশট্যাগগুলো ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে

সেদিনের বর্বরতার পিছনে মূল রহস্য ও বর্বরতার নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করতে দল-মত নির্বিশেষে আইডিতে ব্যক্তিগত সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। ৭.৬২ বোরের নেপথ্য জানতেও আগ্রহী জনতা। সাধারণ
জনতার মূল দাবিগুলো হলো: তদন্ত কমিশন গঠন: প্রতিটি পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
খুনীদের চিহ্নিতকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করে সরাসরি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল: পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
চলমান জোরালো দাবির মুখে সেই সময়ের সহিংসতায় উসকানিদাতা এবং সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক প্রোফাইল ও গ্রুপ থেকে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, যা অপরাধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের ঘটনায় সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে পুলিশ সদস্যদের যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার হওয়া আইনের শাসনের জন্য অপরিহার্য। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে পুরো আন্দোলনকে বিতর্কিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

