নিজেদের সৃষ্ট মব আতঙ্কে উপদেষ্টারা | ভয় ও আতঙ্কে সরকারি ভবন ছাড়তে টালবাহানা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ প্রতি প্রহর
নিজেদেরই সৃষ্ট ও পরিচালিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষের ভয়ে এখন খোদ উপদেষ্টাদের মধ্যেই চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দায়িত্ব ছাড়ার পরেও অনেক সাবেক উপদেষ্টা সরকারি বাসভবন ছাড়তে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, আইনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নানা টালবাহানা করে তারা অবৈধভাবে সরকারি ভবনগুলো দখল করে রাখছেন।
সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে গড়ে ওঠা ‘মব’ বা অনিয়ন্ত্রিত জনতা যেভাবে সচিবালয় বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে বিক্ষোভ করছে, তাতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাবেক উপদেষ্টারা। তাদের ধারণা, সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে গেলে তারা জনরোষের মুখে পড়তে পারেন। এই ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অজুহাতেই তারা বাসভবন ছাড়তে গড়িমসি করছেন।
অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ
নিয়ম অনুযায়ী, দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি বাংলো বা ফ্ল্যাট খালি করার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে একাধিক সাবেক উপদেষ্টা নির্ধারিত সময়ের পরও ভবনে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই অবৈধ অবস্থানের ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের আবাসন সংকটে পড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন কোনো সরকার বা প্রশাসন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মবকে আশকারা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বা প্রভাব বিস্তার করে, শেষ পর্যন্ত সেই মব তাদের জন্যই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন উপদেষ্টাদের এই ভবন ত্যাগের অনীহা মূলত তাদের জনবিচ্ছিন্নতা এবং নিজেদের তৈরি পরিস্থিতির প্রতি অবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে কড়া সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, যারা সুশাসনের কথা বলে ক্ষমতায় আসেন, তাদের নিজেদেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা সরকারি বাসভবনে অবৈধভাবে অবস্থান করা অনৈতিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।

