এনসিপির সংসার ছাড়লো তাসনিম জারা! বেরিয়ে এলো এনসিপির গোপন রহস্য!

📑 সংবাদ প্রতি প্রহর
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন তার স্বামী ও দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণা দেন ডা. জারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে তিনি এখন ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পদত্যাগের কারণ নিয়ে গুঞ্জন
ডা. তাসনিম জারা তার পোস্টে “বাস্তবিক প্রেক্ষাপট” ও “নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে না থাকার” কথা উল্লেখ করলেও সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর নাম নেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধই এই পদত্যাগের মূল কারণ।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে, এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনী মোর্চা গঠনের পথে হাঁটছে।
আসন সমঝোতা: বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে।
এই জোটের বিপক্ষে এনসিপির ভেতরে বড় একটি অংশ সরব হয়েছে। অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোট করার বিপক্ষে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এক পোস্টে দাবি করেছেন, “এনসিপি কার্যত জামায়াতের গর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘মুখোশ টিম’ বা ‘বি-টিম’ তকমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা) আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাসনিম জারা বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে লড়াই করার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে স্বতন্ত্র হতে হচ্ছে।” এখন ১ দিনের মধ্যে প্রায় ৪,৭০০ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী তহবিল থেকে যারা টাকা ফেরত চান, তাদের জন্য রিফান্ড ফর্মও শেয়ার করেছেন তিনি।
এনসিপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে এড়িয়ে গেলেও, সাধারণ ভোটার ও নেটিজেনদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা কি তাহলে পুরোটাই জামায়েত ইসলামির মঞ্চস্থ্য নাটক? জামায়েত ই কি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে তাদের শিবির বাহীনিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সাজিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছিলো যেখানে ছদ্দবেশি শিবির নেতা কর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থী ভেবে বাকি ছাত্ররাও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতারিত হয়েছে?
ইতিমধ্যেই জুলাইয়ের অনেক আঁধার কেটে আলো বেরিয়েছে, অচিরেই হয়তো বেরিয়ে আসবে আরো গভীর কোন সত্য, নতুন কোনো সমীকরণ—তা সময় বলে দেবে।

