Thursday, January 15, 2026
Homeজাতীয়বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরসমুজ্জ্বল সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরসমুজ্জ্বল সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরসমুজ্জ্বল সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

📑 সংবাদ প্রতি-প্রহরঃ

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।

এই বিজয় ছিল বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, সাহস এবং বীরত্বের এক চূড়ান্ত প্রকাশ, যা বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করে। এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের সফল পরিণতি।
​জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম চালিকাশক্তি ও কেন্দ্রবিন্দু। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক, যার দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় – প্রতিটি ধাপে তিনি স্বাধীনতার ভিত্তি প্রস্তুত করেন।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন, যা কার্যত জাতিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। ২৫শে মার্চের কালরাতে গ্রেপ্তারের পূর্বে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁর নামে গঠিত হয় প্রবাসী মুজিবনগর সরকার, যা যুদ্ধ পরিচালনার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রদান করে। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থেকেও তিনি ছিলেন মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধুর এই অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব ছিল।
​বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় অন্যান্য জাতীয় নেতাগণ গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব দেন। বিশেষত, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সুচারুভাবে সরকার পরিচালনা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ও মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতা দেখান। প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী সামরিক কৌশল প্রণয়ন ও মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তাঁর অধীনে ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, যার মধ্যে মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কে এম শফিউল্লাহ সহ অন্যান্যরা বীরত্বের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের (যেমন ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি) নেতারাও যার যার অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত স্বাধীনতাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করেন। প্রতিটি নেতার ভূমিকা ছিল একে অপরের পরিপূরক, কিন্তু সকল কার্যক্রমের মূল প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা এসেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব থেকেই।


মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতীয় চার নেতা, সম্মুখ সমরে ও নেপথ্যে অংশগ্রহনকারী সকল বীর সেনা, ৩০ লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা মা-বোন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাই বিজয়ী সালাম ও বিনম্র শ্রদ্ধা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment - Advertisement

আলোচিত

মন্তব্য