নড়াইলে কিশোর তাজিম হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন!
📑সজিবুল ইসলাম, নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়ায় বন্ধুদের সাথে ক্যারম খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজের পরদিন তাজিম মোল্যা (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে আমডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে হবিবার মৃধার বাড়ির পুকুর পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের তিন বন্ধুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত তামিজ মোল্যা (বামে) ও আহাজারিতে তার স্বজনরা।
নিহত তাজিম মোল্যা উপজেলার চর-আড়িয়ারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শহিদুল মোল্যার ছোট ছেলে। সে আমডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চর-আড়িয়ারা নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে বন্ধুদের সাথে ক্যারাম খেলেন তাজিম ও তার বন্ধুরা। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে তাজিমের বাড়ি থেকে কিলোমিটার খানেক দূরে আমডাঙ্গা স্কুলের পেছনে হবিবার মৃধার পুকুর পাড়ে একটি মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে নিহতের স্বজনরা এসে তাজিমের পরিচয় শনাক্ত করেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাজিমের তিন বন্ধু ইব্রহিম, শিপন ও ইনজামুলকে আটক করেছে পুলিশ।
পরিবারের ছোট সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় পুরো পরিবার। আর শোকে স্তব্ধ তার সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে কিশোরকে। হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর।
নড়াইল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কিশোর তাজিমের মরদেহ লোহাগড়া থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে প্রাথমিক ভাবে আমরা মরদেহের পায়ে ও পিঠে জখম পেয়েছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পেলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

