এভারকেয়ারে সামরিক হেলিকপ্টার মহড়ার আড়ালে মা’কে দেখতে আসছে তারেক!
প্রতি প্রহর ডেস্কঃ
আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে সামরিক হেলিকপ্টার মহড়ার আড়ালে নিঁথর মা- খালেদা জিয়াকে দেখতে আসছে তারেক? এমন গুঞ্জনে গোটা বাংলাদেশ ভাসছে।

জানাগেছে ৩ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রহস্যময় শারীরিক অবস্থা দেখতে পর্যায়ক্রমে তিন বাহীনি প্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা পরিদর্শন করে গেছেন। ১ ডিসেম্বর থেকেই রহস্যজনকভাবেই অসুস্থ্য খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার কোন বার্তা জানাচ্ছেন না চিকিৎসক বা বিএনপি সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। খালেদা জিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও তারেক জিয়ার আগমন সংক্রান্তে উৎসুক দেশবাসী ও সাংবাদিকদের লাগাতার প্রশ্নের মুখেও মুখ খুলছেন না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ধোঁয়াশা থেকে যেন অন্ধকারাচ্ছন্নতার রুপ নিয়েছে।
এদিকে চরম অসুস্থ্যতার মাঝেই কোনপ্রকার পূর্বলক্ষন ছাড়াই রাতারাতি হঠাৎ করে খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষনা করে এসএসএফ নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষনা সহ এভারকেয়ার ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীতে রহস্যের জাল তৈরী হয়েছে সবার চোখে। সেই জালের ফাঁদ খোলার আগেই জন্ম নিয়েছে আরেক চাঞ্চল্য।

প্রধান উপদেস্টা ড. ইউনুস হঠাৎ করে বার্তা দিয়েছেন- “৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালের দুই দিকের দুই মাঠে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের মহড়া চলবে! ”
ব্যাস- এই এক বার্তাতেই আগুন জ্বলে উঠেছে গোটা দেশে। এমনিতেই চিকিৎসক ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের হঠাৎ মুখে কুলুপ আটা নিয়েই মানুষের সংশয় তৈরী হয় যে খালেদা জিয়া হয়তোবা ইতিমধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন! ইউনুস সরকার কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে সত্য ঘোষনা না দিয়ে সময়ক্ষেপন করে কিছু একটা করছে! এ ধরনের একাধিক গুঞ্জনে ছেয়ে গেছে নেট দুনিয়া থেকে পাড়ার চায়ের দোকানগুলো।
রাষ্ট্রের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রধান উপদেস্টা হাসপাতাল পরিদর্শন করে যাবার পরেও হাসপাতালে সামরিক হেলিকপ্টার মহড়ার প্রয়োজনীয়তা কি? এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। খোদ বিএনপির উচ্চস্তরের অনেক নেতারাও সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিচ্ছেন, আবার অনেকেই উল্টে প্রশ্ন করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে এই ঘোষনা বা প্রস্তুতির বিভিন্ন কারন হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারা অনেকেই ধারনা করছেন, যে কোন কারনেই হয়তোবা তারেক রহমান দেশে প্রকাশ্য হতে পারছেন না বা পারবেন না। বিধায় তিনি সরকারের সাথে বিশেষ শর্তে আপোষ রফা করে সরকারী প্রটোকলে বা নজরদারীতে লোকচক্ষুর অন্তরালেই এয়ারপোর্ট থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে এভারকেয়ারে তার মা’ খালেদা জিয়াকে কিছু সময়ের জন্য জীবিত অথবা মৃত দেখে ফিরে যেতে পারেন।
আবার অনেকেই ধারনা করছেন- খালেদা জিয়াকে হয়তবা যে কোন সময়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে হতে পারে, সে কারনে সড়ক পথের ঝুঁকি বা ঝক্কি এড়াতে সামরিক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে যেন সুযোগ পেলেই তাকে হেলিকপ্টারে করেই বিমান বন্দরে নেয়া যেতে পারে।
আবার অনেকে এও আশঙ্কা করছেন যে, বেগম জিয়া হয়তো ইতিমধ্যেই মৃত্যু বরণ করেছেন বা যদি তেমন কিছু হয় তাহলে সরকার যাতে বিএনপি নেতা কর্মী বা উৎসুক জনতার ভিড়, বিশৃংখলা বা অনভিপ্রেত পরিবেশ এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে রাজধানীর বাইরে দেহ স্থানান্তর করাতে পারে সে জন্য এই ব্যবস্থা হতে পারে।
তবে প্রকৃত কারন যাই হোক না কেন, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে না জানানো পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন। বিএনপি সহ দেশবাসী এসব রহস্যময় পরিস্থিতি, প্রস্তুতি, পরিবেশ ও পদক্ষেপ নিয়ে ভীষন উদ্বিগ্নতার মাঝেই রয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও বিএনপির ভবিষ্যত পর্বে সার্বিক পরিস্থিতির খেলাতে তুরুপের তাস কি বিএনপির হাতেই নাকি ড. ইউনুস বা অন্যকারো হাতে- সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সকলকে।

