মায়ের মহাসংকটেও ফিরলেন না তারেক রহমান: বিএনপিতে তিব্র হতাশা ও ক্ষোভ, সমালোচনায় মুখর গোটাদেশ!
নিউজ ডেস্কঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে তীব্র সংশয় বিরাজ করছে। তিনি লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো তাঁর দেশে আসা এখনও সম্ভব হয়নি, এমনকি আসবেন না বলেও নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন। না আসতে পারার পিছনে তিনি অস্পষ্টভাবে কিছু প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

বিএনপির সর্বকালের অন্যতম মহাসংকটের সময়েও তারেকের না ফেরার কারন নিয়ে তৈরী হয়েছে নানান ধোঁয়াশা।
পরিবার ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমানের ওপর সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি একটি বড় কারণ হতে পারে বলে জানানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নেতাদের উদাহরণ বিবেচনায় তাঁর নিরাপত্তা উদ্বেগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানান তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) স্ট্যাটাসে রয়েছেন। দেশে ফিরতে হলে তাঁকে ট্রাভেল পাস সহ একাধিক প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। একইসাথে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক দেশে ফিরলে বা সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহন করলে যে কোন মূহুর্তে বাতিল হতে পারে তার যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক আশ্রয় বা নাগরিকত্বও।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশে ফিরলে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা, দুর্বলতা মোকাবিলা করাও তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার এমন সংকটকালে দেশে না ফিরতে পারার ঘটনায় গভীর হতাশা ও মনঃক্ষুণ্ণতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একাধিকবার সুস্পষ্টভাবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে মায়ের অসুস্থতার সময়ও তিনি পাশে আসতে না পারায় কর্মীরা লজ্জিত বোধ করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, চরম মানবিক সংকটের মুখেও রাজনৈতিক এবং আইনি জটিলতাকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিষয়টি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সকল মামলা থেকে মুক্ত হবার পরেও তারেক রহমান দেশে না ফেরায় আওয়ামী পন্থী সমালোচকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকম মন্তব্য প্রচার করছে। কেউ কেউ বলছে, এখন তো শেখ হাসিনা নেই, তাহলে কার বা কিসের ভয় পাচ্ছে তারেক রহমান?
এই পরিস্থিতি যদি শেখ হাসিনার আমলে তৈরী হতো – তখন বিএনপি নালিশ করে বেড়াতো যে, হাসিনা তারেককে তার মায়ের এমন ক্রান্তিলগ্নেও মায়ের কাছে আসতে দিচ্ছে না।
অনেকেই বলছেন, তারেককে গোপনে ভয় ভীতি দেখিয়ে ইউনুস সরকার দেশে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছে বা বাঁধা দিচ্ছে যাতে তারেক- খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপিকে নেতৃত্বহীন দূর্বল বা বিচ্ছিন্ন করে সুদীর্ঘকালের পরিকল্পিত মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এই ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাসে জামায়েত নিয়ন্ত্রিত ইউনুস সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কারন ইতি পূর্বে বহুবার জামায়েত ও এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতৃবৃন্দ একাধিকবার প্রকাশ্যে এমন ইঙ্গিত প্রকাশ করেছে, যা রহস্যজনক ভাবেই খুব দ্রুততার সাথেই মিলে যাচ্ছে।
(প্রতীকি ছবি- সংগৃহীত)

