মৃত্যু সংকটে খালেদা জিয়া: শঙ্কা, গুজব ও রাজনৈতিক দোষারোপে সয়লাব দেশ!
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

গত ২৩ নভেম্বর (রবিবার) হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডে মারাত্বক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পুরনো সমস্যা যেমন— হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও প্রানঘাতী করে তুলেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের নেতারা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি বোর্ডের আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপি দেশজুড়ে তাঁর সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছে।

চেয়ারপার্সন এর এমন সংকট মূহুর্তে বিএনপি নেতা রিজভি এক সভায় খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন যাবৎ স্লো পয়েজন বা বিষ প্রয়োগ দিয়েছে বলে এক মন্তব্য করলে পুরো দেশে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। কোন ভিত্তি বা প্রমান ছাড়া রিজভির এমন বক্তব্য আওয়ামী নেতারা সহ সুশীল সমাজের অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন- গত ৫/৬ দিন আগেও খালেদা জিয়া সম্পুর্ণ সুস্থ্য ও হাস্যজ্জ্বল ভাবে সশস্ত্রবাহীনির অনুষ্ঠানে যোগদেন এবং ড. ইউনুস সহ বিভিন্ন নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেন। অথচ এর পরপরই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রমান করে সদ্য তাকে ইউনুস সরকার বা বিএনপিতে থাকা সরকারের এজেন্টরা হ*ত্যা চেস্টা করতে পারে।

তারা আরো বলেন, ইউনুস সরকার জামাত ও এনসিপি দেশের সংস্কার পুরো শেষ করার আগে নির্বাচন দিতে কোনভাবেই রাজী ছিলো না। তবে বিএনপির লাগাতার চাপে তারা ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন দিতে রাজী হয়েছে। সেই নির্বাচনের আগ মূহুর্তেই খালেদা জিয়াকে কোনভাবে হ*ত্যা করে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু বানিয়ে নির্বাচন বন্ধ বা রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলের নতুন মেডিকুলাস ডিজাইন হতে পারে এটি। সব মামলায় তারেক রহমান খালাশ পাওয়া সত্বেও সরকার তাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না এদিকে খালেদা জিয়াকে পথ থেকে সরাতে পারলেই জামায়েত বা ইউনুস সরকারের পথ পরিষ্কার হতে পারে। তাই সরকার নিজেরাই যে কোন গোপন পদক্ষেপ নিয়ে বা চিকিৎসা ব্যবস্থ্যা নিয়ন্ত্রন করে খালেদা জিয়ার প্রানসংশয় করিয়ে বিএনপিকে ধংশ করে সেই হত্যার দায় শেখ হাসিনার উপর বর্তানোর দায় বা গুজব ছড়িয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সবরকম সহযোগীতার আশ্বাস জানিয়েছে।

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনের আগে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর শারীরিক সংকট জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে পুরো জাতির চোখ তাঁর চিকিৎসার দিকে, এবং তাঁর সুস্থতা কামনায় চলছে প্রার্থনা।
ছবি সংগৃহীত

