Thursday, January 15, 2026
Homeবাংলাদেশআলোচিত৮ কুকুরছানা হত্যার দায়ে "মানুষরুপী কুকুর" আটকের বিস্তারিত।

৮ কুকুরছানা হত্যার দায়ে “মানুষরুপী কুকুর” আটকের বিস্তারিত।

৮ কুকুরছানা হত্যার দায়ে “মানুষরুপী কুকুর” আটকের বিস্তারিত।

​পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে মানুষরুপী কুকুর হিসাবে চিহ্নিত নিশি রহমান (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

​পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বর/আবাসিক এলাকায় গত রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে।
​জানাগেছে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের এক কোনায় থাকা ‘টম’ নামের একটি মা কুকুর সপ্তাহখানেক আগে আটটি ছানা প্রসব করে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত নারী নিশি রহমান সেই জীবন্ত আটটি কুকুরছানাকে একটি বস্তার মধ্যে বেঁধে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে দেন। পরদিন সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মৃত কুকুরছানাগুলোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কুকুরছানা না পেয়ে মা কুকুরটিকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত নারীর ছেলের কাছ থেকে জানতে পারেন যে তার মা ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। এই অমানবিক ঘটনা লোকমুখে ও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজানি হলে দেশজুড়ে ব্যপক ক্ষোভ, তোলপাড় ও সমালোচনার সৃস্টি হয়।
​মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ এর ৭ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
​অভিযুক্ত নিশি রহমান এই মামলার একমাত্র আসামি। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
​সাধারণ মানুষের ব্যপক ক্ষোভ ও উত্তেজনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নিশি রহমানকে ঈশ্বরদী পৌর সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নিশি রহমানকে পাবনার আমলী আদালত-২ এ সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​অভিযুক্ত নিশি রহমান দাবি করেছেন যে কুকুরের ডাক-চিৎকারে বিরক্ত হয়ে তিনি ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরপাড়ের গাছের গোড়ায় রেখে এসেছিলেন। তিনি নিজে পুকুরে ফেলেননি এবং কীভাবে মারা গেছে তা জানেন না।
​উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এ ধরনের অমানবিক কাজ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। প্রাণী হত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
​এই ঘটনার পর অভিযুক্তের স্বামী ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে সোমবারই গেজেটেড সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তারা মঙ্গলবার বিকেলে কোয়ার্টার খালি করেন।
নৃশংস ও অমানবিকভাবে অবোলা কুকুরছানা হত্যার কারনে পশুপ্রেমীরা সহ সাধারণ মানুষ হিংস্র ও বর্বর নিশিকে ‘মানুষরুপী কুকুর’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা ও উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment - Advertisement

আলোচিত

মন্তব্য