১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ৩ ঘণ্টা কর্মবিরতি
সজিবুল ইসলাম, নড়াইলঃ
নড়াইল: চাকরিতে জাতীয় বেতন কাঠামোর ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের ন্যায্য দাবিতে দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে নড়াইলে ৩ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে নড়াইল সদর হাসপাতালে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের রেডিওলজি, প্যাথলজিসহ বিভিন্ন বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং সেবা নিতে আসা রোগীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৩ ঘণ্টা নড়াইল সদর হাসপাতাল চত্বরে এই কর্মবিরতি চলে। ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। মানবসেবার স্বার্থে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সীমিত আকারে চালু রাখা হলেও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট নেতারা দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থাৎ ১৯৮৯ সাল থেকে এই ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন। একই যোগ্যতার অধিকারী অন্য ডিপ্লোমাধারীরা, যেমন— ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা (১৯৯৪), ডিপ্লোমা নার্সরা (২০১১) এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা (২০১৮) ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডের মর্যাদা পেলেও ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনো ১১তম গ্রেডেই রয়ে গেছেন। করোনা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারীতেও এই পেশার সদস্যরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রোগ নির্ণয়, প্যাথলজি, রেডিওলজি, ইমেজিং এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪ ডিসেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

