হঠাৎ মধ্যরাতে রহস্যময় নিরাপত্তা তোড়জোড়- এভারকেয়ারে! কি হতে যাচ্ছে?
প্রতি প্রহর ডেস্কঃ
২ ডিসেম্বর রাত ১ টা থেকে হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াচ্ছে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। মাঝরাতে হঠাৎকরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তোড়জোড় করায় রহস্যের জন্ম নিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মী সহ সাধারন মানুষের মনে। সবারই এক প্রশ্ন- “তবে কি ভেতরে ভেতরে কিছু ঘটেছে?

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মারাত্বক শারিরীক সংকটে চিকিৎসা গ্রহন করছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত কয়েকদিন তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে মূহুর্তে মূহুর্তে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তৈরী হচ্ছে নানা রকম শঙ্কা ও গুজব।
চরম প্রানসংকটের এমন সময়েও ছেলে তারেক রহমান আসছেন না দেশে তার অসুস্থ্য মায়ের পাশে। এতে দলের নেতাকর্মীরা অস্বস্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু করলে তারেক রহমান নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশে ফেরা নিয়ে তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। তাতে সুস্পষ্ট হয় যে আর হয়তো কোনভাবেই তার মায়ের পাশে দাড়ানো সম্ভব হবে না।
তিনি জানান- “আমার ফেরা আমার একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না।” তার মানে তিনি বেশ সতর্কতার সাথেই প্রকাশ করেছেন যে- তার নামে থাকা সব মামলায় খালাশ পেলেও তার ফেরার পিছনে অন্য কোন জটিলতা রয়েছে। হতে পারে ইউনুস সরকার বা জামায়েত ইসলাম বা সেনাবাহীনি বা আন্তর্জাতিক কোন শক্তি তার দেশে ফেরাটা ভাল চেখে দেখেন না অথবা চূড়ান্ত কোন গোপন বিধি নিষেধ রয়েছে।

গত ৪ দিন যাবত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক কোন সংবাদ দিতে পারেন নি। চীন থেকে ৫ সদস্যের একটি চিকিৎসক টিম গতকাল থেকে তার চিকিৎসায় যোগ দিলেও মেলেনি কোন সুখবর।
বরঞ্চ সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে হাসপাতালের পরিবেশ বদলাতে শুরু করে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলতে নারাজ। এদিকে খালেদা জিয়ার চরম শারিরীক সংকটের মাঝেই হঠাৎ করে কোন প্রকার আগাম বার্তা বা আলোচনা ছাড়াই সোমবার বিকেলেই তড়িঘড়ি তাকে -“অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” হিসাবে ঘোষনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাকে এসএসএফ প্রটোকল দেবারও ঘোষনা দেয় ইউনুস সরকার। ৫ আগস্টের পর থেকেও যিনি স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোগ করছেন তাকে কোন কারন বা আগাম তথ্য বা আলোচনা ছাড়াই এমন সন্মান বা নিরাপত্তায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও সন্দেহ বা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই সন্দেহ পোষন করছেন- বেগম জিয়ার মূমুর্ষ অবস্থায় বা শেষ বেলাতে এই বিশেষ নিরাপত্তা ঘোষনা করে ইউনুস সরকার কি ভবিষ্যতে সখ্যতা সৃষ্টির লক্ষেই বিএনপি নেতা কর্মীদের সন্তুষ্ট করতে চাচ্ছে! এটা কি তাহলে নেতৃত্বশুন্য বিএনপিকে নিজেদের হাতে রাখার কৌশল?

তবে ভবিষ্যত রাজনৈতিক কৌশল যাই হোক না কেন ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হঠাৎ করে এভারকেয়ার হাসপাতালে জোরদার করা হয়েছে তিন স্তরের পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ি বোঝাই করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যদের জড় করা হচ্ছে হাসপাতালের কাছাকাছি।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারনে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, হয়ত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আর কোন উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়, অথবা তিনি হয়তবা ইতিমধ্যেই ‘ক্লিনিকালি ডেথ’ বা না ফেরার পরিস্থিতিতে পৌছেছেন! তাই যে কোন ধরনের দুঃসংবাদ ঘোষনা হবার সাথে সাথে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা বিশৃংখলা নিয়ন্ত্রনের জন্যই তড়িঘড়ি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সবকিছু সাজানো হচ্ছে।
তবে ঘোষনা ছাড়া সঠিক কোন কিছু অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই সর্বশেষ বা সুস্পষ্ট ঘোষনা আসা পর্যন্ত সকলকে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

