সরকার বিরোধী ও আওয়ামী প্রচারণায় অধিক সক্রিয় প্রায় ১৭ লক্ষ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়!
📑 অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ
সরকার বিরোধী ও আওয়ামী প্রচারণায় অধিক সক্রিয় প্রায় ১৭ লক্ষ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়তার খবরে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক বিশাল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, চলমান সরকার বা সরকারের পৃষ্ঠপোষকে একটি বিশেষ সাইবার নজরদারি সেল গঠন করে গত দুই সপ্তাহে আনুমানিক ১৭ লক্ষের অধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ডিসাবল বা স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এই অ্যাকাউন্টগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—এরা চলমান সরকারবিরোধী অথবা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অনলাইন প্রচারণায় যুক্ত ছিল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাইবার জগতে ভুল তথ্য (Disinformation), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) এবং রাজনৈতিক উস্কানি ছড়ানো ঠেকাতেই এই ‘বিশেষ নজরদারী সেল’ গঠন করা হয়। যে অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো: বট ও ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, যাচাই-বাছাই না করা বা ছদ্মনাম ব্যবহার করে তৈরি করা অসংখ্য ফেক বা ভেরিফিকেশন বিহীন অ্যাকাউন্ট। দিনে অস্বাভাবিক সংখ্যক পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ার করে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, সরকারের গূরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইডি বা পোষ্ট গুলোতে উপহাসমূলক ‘হা হা’ বা ‘এ্যাংরি’ রিয়াক্ট দিয়ে রাজনৈতিক গ্রহনযোগ্যতা কমানো বা সরকারী বার্তা বা নির্দেশনাগুলোকে অগ্রহনযোগ্য হিসাবে প্রকাশের প্রচেস্টা করা এসব আইডি ডিসাবলের মূল কারণ হতে পারে।

নিষ্ক্রিয় হওয়া প্রায় ১৭ লক্ষ অ্যাকাউন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ দুই ভাগে বিভক্ত: সরকারবিরোধী সক্রিয় অ্যাকাউন্ট: যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সমালোচনামূলক বা নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত ছিল।
আওয়ামী লীগের পক্ষে অধিক সক্রিয় অ্যাকাউন্ট: যারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে একচেটিয়া ইতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছিল এবং বিরোধী মতকে আক্রমণ করছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ সাইবার স্পেসকে ‘পরিষ্কার’ করার সরকারি উদ্যোগ হতে পারে। উদ্দেশ্য হলো, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইন জগতে ভুল তথ্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ঠেকানো বা অনলাইন জনমত জরিপকে নিয়ন্ত্রন করা। তবে একই সঙ্গে এটি বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে তথ্যের উৎস এবং আইনি ভিত্তি নিয়ে, এই বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে ফেসবুকের মূল সংস্থা **’মেটা’ (Meta)-**এর ভূমিকা কী ছিল এবং বাংলাদেশের কোন আইনি কাঠামোর অধীনে এই নজরদারি সেল কাজ করেছে, তা নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিশেষ সেলের কার্যপ্রণালী এবং এর আইনি বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই অ্যাকাউন্টগুলো সত্যিই ফেসবুকের নীতিমালা (Community Standards) ভঙ্গ করে থাকে, তবে ‘মেটা’-র নিজস্ব ব্যবস্থা দ্বারাই তা নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথা। সরকারি নজরদারি সেলের সরাসরি হস্তক্ষেপের খবরটি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে সরকারের কোন দপ্তরের বার্তা বা নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমান না পাওয়া পর্যন্ত এবিষয়ে সঠিক কোন মতামত প্রচার সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির কাছে ফেসবুক নিস্ক্রিয় করার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তারা সকলেই এটিকে নিছক গুজব বা অপপ্রচার বলে দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী সরকারি বিবৃতি বা ফেসবুকের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগ মাধ্যমের একাধিক অনুসন্ধানী দল নজর রাখছে।

