শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন জরুরি|ভুক্তভোগী দেশবাসীর প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ প্রতি-প্রহর
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশ যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিশ্লেষকদের অনেকেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাব একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তার মূলে ছিল শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনীতিতে যে গতি এনেছিল, বর্তমান অস্থিতিশীলতায় তা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, বড় ধরনের কোনো বৈদেশিক ষড়যন্ত্র বা ‘ভুল বোঝাবুঝি’র ফাঁদে পড়ে আজ দেশের প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে। উন্নয়নের এই চাকা সচল রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে আসছে যে, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনটি কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ছিল না, বরং এর পেছনে কাজ করেছে সুগভীর এক বিদেশি চক্র। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করতে চাওয়া বিশেষ কিছু শক্তির ‘পাতানো ফাঁদে’ পা দিয়েছিল একদল বিভ্রান্ত তরুণ ও সুযোগসন্ধানী পক্ষ। আজ যখন সাধারণ মানুষ দেখছে যে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার ভয় বাড়ছে এবং বিদেশি প্রভাব প্রকট হচ্ছে, তখন তারা পুনরায় শেখ হাসিনার সেই কঠোর ও আপোষহীন নেতৃত্বের অভাব বোধ করছে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা জনমনে ভীতির সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদ দমন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে সুদৃঢ় অবস্থান ছিল, বর্তমানে তা শিথিল হয়ে পড়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এখন মনে করছে যে, তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের মতো একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা আবশ্যক।
আবেগ আর গুজবের বশবর্তী হয়ে যারা একসময় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল, তাদের বড় একটি অংশ এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চিত্র দেখে দেশবাসী বুঝতে পারছে যে তারা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। “দেশবাসী ভুল বুঝতে পেরে আবারো শেখ হাসিনাকে চাচ্ছে”—এই দাবিটি এখন আর কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে নগরের চায়ের আড্ডাতেও একটি আলোচিত বিষয়।
রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগের বিষয় নয়, এটি অভিজ্ঞতার বিষয়। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪ দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক নেতাদের সাথে তার সুসম্পর্ক বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, বর্তমান নেতৃত্ব তা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন অভিজ্ঞ অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা আজ সর্বাধিক।
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিদেশি শক্তির দাবার ঘুঁটি হওয়া থেকে বাঁচতে এবং উন্নয়নের হারানো গৌরব ফিরে পেতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সমর্থক ও সচেতন নাগরিকেরা।

