মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী? এই প্রশ্ন যখন সবখানে তখনই আয়েশার স্বামী জানালেন চুরি করে ধরা পড়ার কারণেই মা-মেয়েকে খুন করেন আয়েশা।
আয়েশার স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সে মনে করছে কিছু জিনিস চুরি করে আইনা আমারে দিব, কিছু টাকা-পয়সা পাইবো। ল্যাপটপ, মোবাইল চুরি কইরা সে আহনের সময় তার ম্যাডাম দেইখা ফেলায়। পেছন থিকা ম্যাডাম ধইরা ফেলায়। তখন সে চাকু দিয়া মারছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ধইরা ছিল, ততক্ষণ পর্যন্তই চাকু দিয়া মারছে। এরপর তার মেয়ে আইলে তারেও মারছে।’
আজ দুপুরে নলছিটির কয়ার চর গ্রাম থেকে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। এ সময় তার স্বামী রবিউল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর থানার ৯ জনের একটি টিম এ অভিযান চালায়।
এর আগে, গত সোমবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে নিজের বাসায় খুন হন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাসার গৃহকর্মী আয়েশা ওই দিন বোরকা পরে ঢুকে স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরে বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় গৃহকর্মীকে আসামি করে মামলা করেন গৃহকর্তা এম জেড আজিজুল ইসলাম।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার চার দিন আগে মোহাম্মদপুর শাজাহান রোডের ৩২/২/এ নম্বর বাসার সাততলার বাসায় কাজ নেন ওই গৃহকর্মী। নিজেকে আয়েশা নামে পরিচয় দেন। মা ও মেয়েকে হত্যার পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যান আয়েশা।
নিহত লায়লা আফরোজ ছিলেন গৃহিণী, আর মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।